কোথা থেকে এসেছে
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি ﷺ সাহাবিদের সব কাজে ইস্তিখারা শেখাতেন, ঠিক যেমন কুরআনের সুরা শেখাতেন (সহিহ বুখারি ৬৩৮২)। ইস্তিখারা বৈধ বিষয়ে বেছে নেওয়ার জন্য — যেমন নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবে রাজি হবেন কি না — ফরজ কাজ করবেন কি না বা হারাম কাজ করবেন কি না, তার জন্য নয়।
পড়ার নিয়ম
- নফল নামাজ পড়া যায় এমন সময়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন (পাঁচ ওয়াক্তের কোনো নামাজ নয়)।
- নামাজের পর আল্লাহর প্রশংসা করুন আর নবীজির ﷺ ওপর দরুদ পড়ুন।
- ইস্তিখারার দোয়া পড়ুন, আর বিষয়টির নাম উল্লেখ করুন — যেমন "রহমান পরিবারের এই বিয়ের প্রস্তাব"।
- তারপর স্বাভাবিকভাবে এগোন: পরিবারের সাথে কথা বলুন, খোঁজখবর নিন, আর সিদ্ধান্ত নিন।
অনেক আলেম বলেন, আরবি দোয়াটি বই বা ফোন দেখে পড়া যায়। এখনো আরবিতে বলতে না পারলে অনেকের মতে নিজের ভাষায় চাওয়া যায়। নিজের বিষয়ে আস্থাভাজন কোনো আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।
দোয়ার অর্থ
হে আল্লাহ, আমি তোমার জ্ঞানের ওসিলায় তোমার কাছে কল্যাণের পথ চাই, তোমার কুদরতের ওসিলায় সামর্থ্য চাই, আর তোমার অসীম অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। তুমি ক্ষমতাবান, আমি নই; তুমি জানো, আমি জানি না; তুমি সব গোপন বিষয়ে জ্ঞাত। হে আল্লাহ, তুমি যদি জানো এই বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবন আর আমার পরিণামের জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করো, সহজ করে দাও, আর তাতে বরকত দাও। আর যদি জানো এটি আমার দ্বীন, আমার জীবন আর আমার পরিণামের জন্য অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে দাও, আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখো, যেখানেই কল্যাণ থাকুক, আমার জন্য তা নির্ধারণ করো, আর তাতেই আমাকে সন্তুষ্ট রাখো।
ইস্তিখারা যা নয়
- স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়। হাদিসে কোনো স্বপ্ন বা আলামতের কথা নেই। উত্তর "দেখার" জন্য ইস্তিখারার পরেই ঘুমিয়ে পড়া একটি প্রচলিত রেওয়াজ, সুন্নাহর অংশ নয়।
- এটি ভোট নয়। পরে অস্থির লাগা মানেই "না" নয়, আর শান্তি লাগা মানেই নিশ্চিত "হ্যাঁ" নয়।
- খোঁজখবরের বিকল্প নয়। দোয়া করুন, আর পারিবারিক খোঁজখবর, ভিডিও কল আর বিয়ের আগের জরুরি প্রশ্নগুলোও সেরে নিন।
- যিনি সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনিই পড়বেন। অন্য কাউকে দিয়ে "ইস্তিখারা করানো" প্রচলিত, কিন্তু হাদিসে প্রত্যেককে নিজের জন্য চাইতে শেখানো হয়েছে। মা-বাবা অবশ্যই সন্তানের জন্য দোয়া করতে পারেন।
ইস্তিখারা আর ইস্তিশারা একসাথে
আলেমরা প্রায়ই বলেন: আল্লাহর কাছে চাও (ইস্তিখারা), আর মানুষের পরামর্শ নাও (ইস্তিশারা)। কুরআনে প্রশংসা করা হয়েছে সেই মুমিনদের, "যাদের কাজ পরস্পর পরামর্শের ভিত্তিতে হয়" (৪২:৩৮), আর নবীজিকে ﷺ নিজেও বলা হয়েছে, "কাজে-কর্মে তাঁদের সাথে পরামর্শ করো" (৩:১৫৯)। মা-বাবা, আস্থাভাজন কোনো মুরুব্বি বা ইমামের সাথে কথা বলুন — তারপর ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
ইস্তিখারার পর
দোয়া আর পরামর্শের পর যা সবচেয়ে ভালো মনে হয়, সেদিকে এগোন। বিষয়টি সহজ হয়ে গেলে অনেকে একে ভালো লক্ষণ মনে করেন; বারবার পথ বন্ধ হলে, সেটিও হয়তো একটি উত্তর। এখনো দ্বিধা থাকলে আবার ইস্তিখারা করতে পারেন।