মূল অংশে যান

নিরাপত্তা

বিয়ের নামে প্রতারণা: ভুয়া প্রোফাইল চেনার উপায়

বিয়ের নামে প্রতারণা সফল হয়, কারণ তা আমাদের ভালো দিকগুলোকেই কাজে লাগায়: আশা, বিশ্বাস, আর পরিবারের জন্য ঠিক কাজটি করার ইচ্ছা। প্রতারণা সাধারণত কীভাবে এগোয়, মানুষটি আসল কি না কীভাবে যাচাই করবেন, আর ঘটে গেলে কী করবেন — জেনে নিন।

সর্বশেষ হালনাগাদ ২০ অক্টোবর ২০২৬পড়তে ৪ মিনিট

তিনটি সত্য ঘটনা

  • অক্টোবর ২০২৬, নাটোর। ইতালিপ্রবাসী এক বাংলাদেশি ফেসবুকে পরিচয় হওয়া এক "নারীকে" ফোনে বিয়ে করেন। "কনে" সব সময় ভিডিও কল এড়িয়ে যেতেন। পরে জানা যায়, তিনি আসলে এক তরুণ, যিনি বাবার সহায়তায় কণ্ঠ বদলানোর অ্যাপ ব্যবহার করতেন — আর ততদিনে তিন লাখ টাকার বেশি চলে গেছে (প্রথম আলো)।
  • ২০২০। পত্রিকার একটি বিয়ের বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে ৭০ বছরের এক বিপত্নীক প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা হারান। পুলিশ (সিআইডি) জানায়, বিজ্ঞাপনের পেছনের নারী দশ বছর ধরে এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিলেন (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)।
  • প্রতি সপ্তাহে, সব জায়গায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বারবার একই ধরন বর্ণনা করে: এমন কেউ, যিনি দেখা করতে পারেন না, কথাবার্তা অ্যাপের বাইরে নিয়ে যান, তারপর টাকার দরকার পড়ে।

সতর্ক সংকেত

  • ভিডিও কল করতে চান না, অথবা ক্যামেরা সব সময় "নষ্ট"।
  • খুব তাড়াতাড়ি এগোতে চান: কয়েক দিনের মধ্যেই নিকাহর কথা, সিদ্ধান্তের জন্য চাপ।
  • শুরুতেই অ্যাপের বাইরে নিয়ে যান — হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো বা টেলিগ্রামে।
  • পরিবারকে দূরে রাখেন: "এখনই মা-বাবাকে বোলো না", "আমার পরিবার বিদেশে"।
  • গল্প মেলে না: চাকরি, শহর, বয়স বা পরিবারের তথ্য বদলে যায়।
  • টাকার কথা আসে: হাসপাতালের বিল, ভিসার ফি, কাস্টমসে আটকে থাকা পার্সেল, জমির কাগজ, "বিনিয়োগ"।
  • প্রস্তাবের সাথে ভিসা: "তোমাকে বিদেশে নিয়ে যাব" — সাথে একটা ফি।

আমাদের নিরাপত্তা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি দেখা এগারোটি কৌশল আর প্রতিটির করণীয় দেওয়া আছে।

পারিবারিক ভিডিও কল

যেকোনো প্রতিশ্রুতির আগে পারিবারিক ভিডিও কলই সবচেয়ে সহজ যাচাই। আসল পরিবার খুশিমনেই রাজি হয়; প্রতারক অজুহাত খোঁজে।

  1. দুই পরিবারকেই রেখে কল করতে বলুন — দুই দিকেই মা-বাবা বা ভাই-বোন কেউ থাকুন।
  2. স্বাভাবিক রাখুন: সালাম-কুশল, কে কোথাকার, কে কী করেন।
  3. খেয়াল করুন, পর্দার মানুষটি ছবির সাথে আর পরিচিত কণ্ঠের সাথে মেলে কি না।
  4. রাজি না হলে, বারবার পিছিয়ে দিলে, বা শুধু রেকর্ড করা ভিডিও পাঠালে সেখানেই থামুন।
যাঁর পরিচয় আপনার পরিবারের কেউ সরাসরি বা আস্থাভাজন মানুষের মাধ্যমে নিশ্চিত করেননি, তাঁর সাথে কখনো ফোনে বা ভিডিওতে নিকাহতে রাজি হবেন না।

মানুষটি আসল কি না, যাচাই করুন

  • তাঁর প্রধান ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে (যেমন গুগল লেন্স) খুঁজে দেখুন। চুরি করা ছবি প্রায়ই অন্য নামে পাওয়া যায়।
  • তাঁর শহরে থাকা আত্মীয় বা বন্ধুদের জিজ্ঞেস করুন, কেউ পরিবারটিকে চেনেন কি না।
  • কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম বললে, সেখানে কাজ করেন কি না জানতে প্রতিষ্ঠানের মূল নম্বরে ছোট একটি ফোন করা যুক্তিসংগত। এর বেশি যাবেন না।
  • যাচাই ব্যাজ আছে কি না দেখুন, আর ব্যাজের মানে বুঝে নিন। কবুল কাবিনে প্রতিটি ব্যাজে লেখা থাকে ঠিক কী যাচাই হয়েছে — দেখুন আস্থা ও যাচাই।

একটাই নিয়ম: টাকা পাঠাবেন না

পরিবারসহ দেখা হয়নি এমন কাউকে টাকা, উপহার, সোনা, গিফট কার্ড বা ক্রিপ্টো পাঠাবেন না — গল্প যত জরুরিই হোক। প্রতারকেরা "না"-কে "শুধু এবারের মতো"-তে বদলে ফেলতে ওস্তাদ। কবুল কাবিন, এর কর্মী বা ঘটক কখনো চ্যাটে বা ব্যক্তিগত বিকাশ-নগদ নম্বরে টাকা চাইবে না।

প্রতারিত হলে

  1. টাকা দেওয়া বন্ধ করুন, হুমকি দিলেও বা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও।
  2. স্ক্রিনশট, ফোন নম্বর আর লেনদেনের রসিদ রেখে দিন।
  3. সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে জানান — কখনো কখনো লেনদেন আটকানো যায়।
  4. যেখানে পরিচয় হয়েছিল, সেই প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইলটি রিপোর্ট করুন।
  5. আপনার দেশের পুলিশ বা জাতীয় জালিয়াতি-অভিযোগ সেবায় জানান। দেখুন কোথায় সাহায্য পাবেন।
  6. আস্থাভাজন কাউকে বলুন। আপনি লজ্জার কিছু করেননি: এরা পেশাদার অপরাধী।

কবুল কাবিন যেভাবে সাহায্য করে

  • দুজনে রাজি না হলে কেউ আপনাকে বার্তা পাঠাতে পারে না।
  • কথোপকথনের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় কেউ ফোন নম্বর, ইমেইল বা টাকা চাইলে অ্যাপ সতর্ক করে।
  • দুজনের আইডি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চ্যাটে লিংক বন্ধ থাকে।
  • "টাকা চাইছে" আর "আগে থেকেই বিবাহিত" — দুটিই রিপোর্টের কারণ, যা আমাদের আস্থা ও নিরাপত্তা টিম পর্যালোচনা করে।